বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানি রুপির মান স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশেষ সহায়তা তহবিল চেয়েছে পাকিস্তান। ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ বা বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল শিরোনামে এই বিশাল অংকের অর্থ চেয়ে সম্প্রতি একটি আবেদন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার পরপরই পাকিস্তান এই প্রস্তাবটি সামনে আনে।
পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো এক আবেদনে এই দ্বিপক্ষীয় তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই তহবিলের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এই সহায়তা পাওয়া গেলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই তহবিলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া কঠোর শর্তগুলোও মেনে চলবে ইসলামাবাদ। বর্তমানে দেশটি আইএমএফের সাত বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান বেশ বিরল। এর আগে ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এবং ২০০২ সালে উরুগুয়ে এ ধরনের বিশেষ সহায়তা পেয়েছিল। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক। দেশটির রিজার্ভ মূলত চীন ও সৌদি আরবের আমানতের ওপর নির্ভরশীল। গত এপ্রিল মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পর পাকিস্তানের রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়েছিল, যা পরবর্তীতে সৌদি আরবের সহায়তায় কিছুটা সামাল দেওয়া হয়।
এদিকে, ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ জানিয়েছে, আইএমএফের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে পাকিস্তানের অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশটি আবারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাইছে পাকিস্তান। শুধু এই তহবিলই নয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি, খনি প্রকল্প এবং নিউ ইয়র্কের রুজভেল্ট হোটেল পুনর্গঠনের মতো বিভিন্ন খাতেও দুই দেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রিজার্ভের সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ তহবিল চেয়েছে পাকিস্তান। রুপির মান রক্ষা ও বিদেশি ঋণের চাপ কমাতে এই বিশাল অঙ্কের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


0 Comments