ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন পর্যালোচনা করছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সভায় 'ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের করা অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। ভারত সরকার জানিয়েছে, গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এটি ভারতের সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশটির নীতি অনুযায়ী, তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। কমিটি এই পরিস্থিতিকে ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের করা আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত সরকার। দেশটিতে অবস্থান করলেও তাকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।


0 Comments