কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মগডেইল এলাকায় গৃহবধূ কহিনুর আক্তারের (৩২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৩ জুলাই দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে কহিনুর আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে মহেশখালী থানা পুলিশ।
নিহত কহিনুর আক্তার স্থানীয় আবু বক্করের মেয়ে এবং সৌদি প্রবাসী বশির আহমদের স্ত্রী। ২০১২ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে নিজের কক্ষে ছিলেন কহিনুর। পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় এক আত্মীয় বাড়িতে এসে তার সাথে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর সন্তানরা কহিনুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বজনদের খবর দেয়।
পরদিন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে কহিনুর আক্তারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা দাবি করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান জানান, পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংগৃহীত আলামতগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গৃহবধূ কহিনুর আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার নিয়ে রহস্য। পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কাজ করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।


0 Comments