কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল থামার পর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় রোদ উঠলেও বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় আটটি ইউনিয়নে বন্যার পানি বেড়েছে। উপজেলার খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া ও সরলসহ আটটি ইউনিয়নে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২১২টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলম ও মোহছেনা খাতুন জানান, বসতভিটায় পানি ওঠায় তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম সিকদার ও গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ওসমান গনী জানান, সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দী ও রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ৪৪ টন চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত ও দীঘিনালার ইউএনও তানজিল পারভেজ জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কয়েক হাজার পরিবার অবস্থান করছে এবং তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন মণ্ডল জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমলেও আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত আবহাওয়া এমন থাকতে পারে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় আট ইউনিয়নে বন্যার পানি বেড়েছে। পানিবন্দী ৫ লাখ মানুষ। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কাটেনি।

0 Comments