শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষা ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সুশীল ফোরাম। গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে ‘শহীদ আবু সাঈদ হত্যা ও জুলাই যুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণে’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি তোলা হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম শহীদুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক নূর নবী মানিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নূর নবী মানিক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি এই আন্দোলনকে দেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিলম্ব হলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জাহিদ সতর্ক করে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা নতুন স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিতে পারে। তাই জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাগপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান, বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহ-সভাপতি আলতাফ উদ্দিন মোল্লা, শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই মো. রমজান আলী, বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. আল হাসান মোবারক এবং বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের সভাপতি মো. মাসুদ হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. আবুল হাসনাত মো. আমিন, ফজলুল করিম শামীম, জবা ইসলামসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নিয়ে চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও তাদের বীরত্বগাথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সুশীল ফোরাম। বক্তারা জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।


0 Comments