চীন ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক কোনো আদর্শিক বন্ধন নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ বাস্তবমুখী ও পারস্পরিক উপযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বেইজিংয়ের কাছে তেহরান মূলত একটি দ্বিতীয় সারির অংশীদার। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক ফারজিন নাদিমির মতে, দুই দেশের ২৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত চুক্তিতে কোনো প্রতিরক্ষা গ্যারান্টি রাখা হয়নি। ২০২৬ সালের সংঘাতের সময় যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন, তখন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একে কেবল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। শিকাগো কাউন্সিলের গবেষকদের মতে, এটি ছিল মূলত দায় এড়ানোর কৌশল।
এই নিরপেক্ষ অবস্থানের আড়ালে চীন ব্যাপক অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জন করেছে। গত দুই বছরে দেশটি ইরান থেকে সস্তায় তেল কিনে বিশাল পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ গড়ে তুলেছে। তবে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ইরানের পতন চান না, কারণ এটি তার স্বপ্নের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এছাড়া ইরানের পতন ঘটলে চীনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র পাকিস্তান কৌশলগতভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাহুল সিংয়ের মতে, চীন মূলত পাকিস্তানকে অস্ত্র পরীক্ষার ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহার করে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের কান কাসাপোওগ্লু জানিয়েছেন, চীন ইরানকে বেইডু স্যাটেলাইট ও রাডার প্রযুক্তি সরবরাহ করলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে নারাজ। সাংবাদিক জসিম আল-আজাবির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, চীন এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি চাল খেলছে এবং অন্যের পাতানো ফাঁদে পা না দিয়েই নিজের স্বার্থ হাসিল করছে।
ইরান ও চীনের সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক স্বার্থের ওপর টিকে আছে। বেইজিং তেহরানের কাছ থেকে সস্তায় তেল কিনলেও যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি পাশে দাঁড়াতে নারাজ। পাকিস্তানের মতো ইরানকে সামরিক গ্যারান্টি দেয়নি চীন।


0 Comments