এশিয়ার বাজারে তেলের আধিপত্য ধরে রাখতে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্যছাড় ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো তাদের জনপ্রিয় ‘আরব লাইট’ ক্রুডসহ পাঁচটি গ্রেডের তেলের দাম আগামী আগস্ট মাসের জন্য ব্যারেল প্রতি ১১ ডলার কমিয়েছে। তবে এই বিশাল ছাড়ের পরেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় সৌদির তেল এখনও ব্যয়বহুল রয়ে গেছে, যার ফলে এশীয় ক্রেতাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর আগে মে মাসে উত্তেজনার কারণে এই পথ বন্ধ থাকায় তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় এশিয়ায় তেলের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি তাদের পুরোনো ক্রেতাদের ফেরানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, ইরাকের সোমো এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও বড় অঙ্কের ছাড় দিচ্ছে।
বাজার গবেষণা সংস্থা ভরটেক্সার মতে, চীনে তেলের চাহিদা কম থাকা এবং ইরানের তেলের সহজলভ্যতা বাজারকে ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। এশীয় শোধনাগারগুলো জানাচ্ছে, পারস্য উপসাগরের ভেতর থেকে তেল পরিবহনের উচ্চ ভাড়া ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে সৌদি তেলের প্রকৃত খরচ এখনও বেশি। ভারতের একটি শোধনাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্যান্য উৎস থেকে কম দামে তেল পাওয়ায় তারা সৌদির তেলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার পরিস্থিতির সাথে দ্রুত সামঞ্জস্য না করলে সৌদি আরামকো এশিয়ায় তাদের বড় বাজার অংশীদারিত্ব হারাতে পারে।
এশিয়ার বাজারে তেলের দাম রেকর্ড ১১ ডলার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। তবে উচ্চ জাহাজ ভাড়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে এখনও অনীহা দেখা যাচ্ছে।


0 Comments