বন্যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে বন্যার পানি অজুর জন্য ব্যবহারযোগ্য কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় তৈরি হয়। ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, পানি মূলত পবিত্র এবং পবিত্রকারী। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো পানি নিশ্চিতভাবে অপবিত্র হওয়ার প্রমাণ পাওয়া না যায়, ততক্ষণ তা পবিত্র হিসেবেই গণ্য হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, পানি নিজে থেকে অপবিত্র হয় না। বন্যার পানিতে মাটি বা বালু মিশে ঘোলা হলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায় না। হানাফি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ আল-হিদায়াহ অনুযায়ী, পবিত্র বস্তু মিশে পানির রং বা গন্ধে পরিবর্তন এলেও যদি তা প্রবাহমান থাকে, তবে তা দিয়ে অজু ও গোসল করা বৈধ। তবে যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে পানিতে নাপাক বস্তু মিশেছে এবং এর ফলে পানির স্বাদ, গন্ধ বা রং বদলে গেছে, তবে সেই পানি ব্যবহার করা যাবে না। কেবল সন্দেহ বা অনুমানের ভিত্তিতে পানিকে নাপাক বলা যাবে না বলে ফিকহি নীতিতে উল্লেখ রয়েছে। ফাতাওয়া আলমগিরিতে বলা হয়েছে, প্রবাহমান পানিতে নাপাকি পড়লেও যদি মৌলিক বৈশিষ্ট্য না বদলায়, তবে তা পবিত্র থাকে। অন্যদিকে, বন্যার পানি যদি অত্যন্ত দূষিত বা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে ইসলাম সহজ বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুমের বিধান দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-মায়িদাহতে পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের এই সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য ফিকহি নির্দেশনার আলোকে ইবাদত পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন্যার পানি দিয়ে কি অজু করা যাবে? দুর্যোগকালীন সময়ে ইবাদত ও পবিত্রতা অর্জনে ইসলামের সঠিক ও সহজ বিধানগুলো জেনে নিন। নিশ্চিত নাপাকি না থাকলে বন্যার পানি পবিত্র হিসেবেই গণ্য হবে।


0 Comments