টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের সাতটি জেলার ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে, যেখানে ২৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শেলী আক্তার জানান, পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় ছয় সন্তান নিয়ে মাচার ওপর মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তিনি। একই এলাকার মো. ফারুকের ৩০ বছরের পুরোনো মাটির ঘরটি ধসে পড়ায় তিনি সপরিবারে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও রামুসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। তিন পার্বত্য জেলায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বান্দরবানের পরিস্থিতি এখনও নাজুক। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারেও হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের সিরাজ মিয়া জানান, কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় আছেন। বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ধনেশ্বর চাকমা জানান, কিছু মানুষ ঘরে ফিরলেও অনেকে এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে তবে সিলেটে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী অবস্থা।
দেশের ৭ জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩ লাখ পরিবার। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।


0 Comments