রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ২২ কাঠার একটি মূল্যবান প্লটের মালিকানা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের অনুকূলে দেওয়া ওই রায় বাতিলের আদেশ দেন। এর ফলে গুলশানের আজাদ মসজিদ সংলগ্ন রোড-৩৬-এর সিডব্লিউএন (বি) ব্লকের ৩৩ নম্বর প্লটটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশকে এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশন জমিটি বন্ধক রেখে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম মজুমদার একটি ভুয়া সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করে জমিটি নিজের নামে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় প্রদান করেছিলেন। তবে আপিলকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে ওই সম্পত্তি নিজের নামে নিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। আদালত ২০১২ সাল থেকে ওই সম্পত্তির সব ধরনের হস্তান্তর ও নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল কবির খান অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আপিল মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশে ফিরে গুম কমিশনে অভিযোগ করেন এবং পুনরায় রিভিউ আবেদন দাখিল করেন। আদালতে আপিলকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আহসানুল করিম ও আনিসুল হাসান শুনানি করেন। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মজুমদারের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত অক্টোবর মাসে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গুলশানে ২২ কাঠা জমির মালিকানা নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের অনুকূলে দেওয়া ওই মালিকানা অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় জমিটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরছে।

0 Comments