প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) ছয় দিনের এই সফরে তিনি প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরবর্তীতে চীন ভ্রমণ করবেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর সফরে তিনি দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই করতে পারেন। এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হলো বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং অনিয়মিত কর্মীদের বৈধ করার সুযোগ তৈরি করা। এছাড়া হালাল পণ্য রপ্তানি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা হবে। প্রবাসীরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে সিন্ডিকেটমুক্ত কর্মী নিয়োগ ও দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান হবে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগ দেবেন। এরপর ২৪ জুন তিনি বুলেট ট্রেনে বেইজিং যাবেন। চীন সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। বিশেষ করে গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালু এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এছাড়া নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল’ নির্মাণের চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে ব্রিকস ও সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে যুক্ত হতে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এই সফরকে দুই দেশের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান। শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও বড় বিনিয়োগ প্রকল্পের বিষয়ে এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


0 Comments