দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে উপনীত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যকার এই যুগান্তকারী সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডেই পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আরও আলোচনা হবে।
এই শান্তিচুক্তির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় এই চুক্তিকে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই অগ্রগতির প্রশংসা করে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই চুক্তি দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই কাঠামোগত চুক্তিকে স্বাগত জানালেও চূড়ান্ত স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত সব পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও সম্ভাব্য নাশকতা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে টেকসই শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে তারা উল্লেখ করেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো নিরসন করতে হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বনেতাদের এই জোরালো সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার জেনেভায় হবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর। এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিশ্বনেতারা।


0 Comments