ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের অর্থ ফিরিয়ে আনতে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এনডিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে। বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্তদের বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও তা দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি সহায়তা দেবে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টি। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৭৯ লাখের বেশি সঞ্চয়ী হিসাব এবং ১ কোটি ৫৩ লাখের বেশি ঋণ হিসাব রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আর্থিক সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই হার ৬৪.৫০ শতাংশ।
বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া দেশে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ১১.৮৬ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩৮ লাখে উন্নীত হয়েছে। কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
আর্থিক সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত তারল্য সহায়তা দিচ্ছে। গত ১৫ জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক্সিম ব্যাংকসহ পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিম-২০২৫’-এর আওতায় আনা হয়েছে। আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৭৫.৩০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এছাড়া আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মুদির দোকান, বিউটি পারলারসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
বিদেশে পাচার করা সম্পদ ও খেলাপি ঋণ উদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, এস আলম ও বেক্সিমকোসহ বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।


0 Comments