কক্সবাজার থেকে পাচারের সময় জব্দকৃত এক লাখ পিস ইয়াবা বড়ি গায়েব ও আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সিএমপির পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আদেশ জারি করা হয়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক, প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে দায়িত্বরত কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন এক লাখ ইয়াবা নিয়ে বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকায় তল্লাশির সময় তৎকালীন এএসআই সাদ্দাম হোসেন ও একজন সোর্স তাকে আটক করেন। পরবর্তীতে বাকলিয়া থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল-আমিন সরকার ও এসআই আমির হোসেনের উপস্থিতিতে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশে সেই বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ তালিকায় না দেখিয়ে পুলিশ সদস্যরা নিজেরা আত্মসাৎ করেন এবং অভিযুক্ত কনস্টেবল ইমতিয়াজকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে সিএমপির উচ্চপর্যায়ের তদন্তে বাকলিয়া থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল-আমিন সরকার, এসআই আমির হোসেন এবং এএসআই সাদ্দাম হোসেনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এছাড়া এএসআই সাইফুল আলম, এএসআই জিয়াউর রহমান ও এএসআই এনামুল হকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের প্রমাণ মিলেছে। ইতিপূর্বে কনস্টেবল ইমতিয়াজ ও পরিদর্শক তানভীরসহ কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা ওসি আফতাব উদ্দিন বহাল তবিয়তে ছিলেন। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে তার বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ সদস্যদের মাদক পাচার ও আলামত গায়েবের প্রমাণ মেলায় এই কঠোর ব্যবস্থা নিল সিএমপি।


0 Comments