বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন দিনের চীন সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের উদ্বেগকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল টাইমস। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি জানায়, নতুন সরকারের এই তাৎপর্যপূর্ণ সফরসূচি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ঢাকার উচ্চ অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। গ্লোবাল টাইমসের মতে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে এবং গত ১ ডিসেম্বর থেকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ায় চীনে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বেড়েছে। এবারের সফরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কৌশলগত সংলাপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতকে বেছে না নেওয়ায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। একে ‘দাদাগিরি মানসিকতা’ হিসেবে অভিহিত করে গ্লোবাল টাইমস বলেছে, প্রতিবেশী দেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে অবমাননা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। তিস্তা প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও পত্রিকাটি মন্তব্য করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের উদ্বেগকে দাদাগিরি মানসিকতা বলে আখ্যা দিয়েছে গ্লোবাল টাইমস। বেইজিং ও ঢাকার মধ্যে গভীর সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা দেখছে চীন।


0 Comments