যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া ঐতিহাসিক চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের চার প্রভাবশালী রাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি গত রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানায়। দেশগুলোর নেতারা উল্লেখ করেছেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সে লক্ষ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাথে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, তার দেশের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, আগামী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়কালে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবার থেকে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতার পর তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের চার দেশ। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিতে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

0 Comments