প্রশাসনিক অনিয়ম ও হয়রানি রোধে আইনি বিধান থাকা সত্ত্বেও দেশে ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়ার সরকারি নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ন্যায়পালের কার্যালয় কার্যকর করতে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত হাসানের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমান জিলানীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে (আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ) আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী ইসরাত হাসান জানান, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে একজন ন্যায়পাল থাকার কথা, যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, হয়রানি, অবিচার ও কর্মসম্পাদনে অহেতুক বিলম্বের মতো অভিযোগ তদন্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। এই উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালে 'ওম্বুডসম্যান অ্যাক্ট' বা ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হলেও স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময়েও কোনো সরকার এই পদে নিয়োগ দেয়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ন্যায়পাল নিয়োগ না দেওয়া এবং কার্যালয়টি কার্যকর না করা সংবিধানের ৭, ১১, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা রোধ করে জনগণের ভোগান্তি কমাতে এই পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো জবাব না পাওয়ায় জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করা হয়।
দেশে ন্যায়পাল নিয়োগে সরকারি নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সুশাসন নিশ্চিতে এই রুল জারি করা হয়েছে।

0 Comments