শিশুর মেজাজ খিটখিটে হওয়া কিংবা পড়া ও খেলায় মনোযোগ দিতে না পারার মতো সমস্যায় বর্তমানে অনেক মা-বাবাই ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর আচরণের সঙ্গে পুষ্টির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর মস্তিষ্ক ও অন্ত্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাই খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে শিশুর আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব।
শিশুর মানসিক ভারসাম্য ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব থাকলে শিশু দুর্বলতা অনুভব করতে পারে এবং তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এটি দীর্ঘমেয়াদে শিশুর শেখার ক্ষমতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকেও প্রভাবিত করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, ডিম, মাংস, ডাল ও বাদামের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখাও শিশুর মানসিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন। দই, ঘোল, শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করা শিশুর মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখে। শিশুরা অনেক সময় তৃষ্ণার কথা বুঝতে পারে না, তাই তাদের নিয়মিত পানি পানের অভ্যাস করাতে হবে। পাশাপাশি তরমুজ, শসা বা স্যুপের মতো জলীয় খাবারও দেওয়া যেতে পারে।
খাবারের নিয়মিত সময়সূচী বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি। কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, যা শিশুর মেজাজ ও মনোযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করলে শিশুর হজমশক্তি বাড়ে এবং সে সারাদিন প্রাণবন্ত থাকে।
শিশুর খিটখিটে মেজাজ বা অমনোযোগের পেছনে থাকতে পারে পুষ্টির অভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এবং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করলে শিশুর আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।

0 Comments