পৃথিবীর মানচিত্রে মানুষের বসতির উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমানা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ গোলার্ধের ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের পর জনবসতি প্রায় নেই বললেই চলে। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেই গড়ে উঠেছে কিছু শহর। দক্ষিণ গোলার্ধের সবচেয়ে দক্ষিণের শহর হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার উশুইয়া। প্রায় ৮৩ হাজার মানুষের এই শহরটিকে বলা হয় ফিন দেল মুন্দো বা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত। এখান থেকেই মূলত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের জাহাজগুলো ছেড়ে যায়। যদিও চিলির পুয়ের্তো উইলিয়ামস ভৌগোলিকভাবে আরও দক্ষিণে অবস্থিত, তবে স্বল্প জনসংখ্যার কারণে উশুইয়াই প্রধান শহর হিসেবে স্বীকৃত।
অন্যদিকে, উত্তর গোলার্ধের শেষ প্রান্তে মানুষের টিকে থাকার লড়াই আরও ভিন্ন। আমেরিকার আলাস্কার উটকিয়াগভিক শহরটি আইনগতভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরের শহর হিসেবে পরিচিত। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের এই জনপদে শীতকালে টানা ৬৫ দিন সূর্য ওঠে না, যাকে বলা হয় পোলার নাইট। আবার গ্রীষ্মকালে এখানে টানা আড়াই মাস সূর্য কখনো অস্ত যায় না। এছাড়া নরওয়ের লংইয়ারবাইন শহরের মতো উত্তর মেরুর কাছাকাছি আরও কিছু জনবসতি থাকলেও সেগুলোর জীবনযাত্রা ও নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠিন। যেমন লংইয়ারবাইন শহরে তীব্র ঠান্ডার কারণে মৃতদেহ কবর দেওয়া নিষিদ্ধ।
মজার বিষয় হলো, পৃথিবীর এই দুই প্রান্তের প্রধান শহর উশুইয়া এবং উটকিয়াগভিক—উভয়ই আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত। তাত্ত্বিকভাবে প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের কাজ শেষ হলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সড়কপথে যাতায়াত করা সম্ভব হতে পারে। মূলত আদিবাসী সম্প্রদায় এবং আধুনিক পর্যটনকে কেন্দ্র করেই এই চরম ভাবাপন্ন অঞ্চলের জনপদগুলো টিকে আছে।
পৃথিবীর একদম উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের শহরগুলোর জীবনযাত্রা কেমন? আর্জেন্টিনার উশুইয়া থেকে আমেরিকার আলাস্কার উটকিয়াগভিক পর্যন্ত বিস্তৃত এই জনপদগুলোর রোমাঞ্চকর তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments