পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিশাল জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। এই নির্বাচনে জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে ‘বাংলাদেশ ফ্যাক্টর’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচারণাকে সাজিয়েছিল। দলটি নিজেকে হিন্দু শরণার্থীদের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বিজেপির এই কৌশলের বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাব, দুর্নীতির অভিযোগ এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা তাদের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। এছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বিজেপি অত্যন্ত সুকৌশলে ভোটারদের সামনে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার উদ্বেগ বিজেপির পক্ষে জনমত গঠনে সহায়ক হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির এই প্রচারণাকে সাম্প্রদায়িক বলে অভিহিত করলেও তা ভোটারদের ভয় দূর করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ছাপিয়ে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ও জাতীয় নিরাপত্তা কেন্দ্রিক বয়ানই নির্বাচনে জয়ী হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ নির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে বিজেপির বিশাল জয়। নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশ ফ্যাক্টর ও সীমান্ত ইস্যু। হিন্দু শরণার্থী ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিজেপির কৌশলই বদলে দিয়েছে ভোটের সমীকরণ।

0 Comments