একপাশে পাহাড় আর অন্যপাশে সমুদ্রবেষ্টিত চট্টগ্রাম শহর ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। বিকেলের নরম রোদ আর সমুদ্রের বিশালতা উপভোগ করতে নগরবাসীর প্রধান গন্তব্য এখন পতেঙ্গা সৈকত। এখানে প্রশস্ত হাঁটার পথ, বসার জায়গা ও ফুডকোর্ট থাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মুরাদপুর বা মেরিন ড্রাইভ—উভয় পথেই সহজে পৌঁছানো যাচ্ছে এই সৈকতে। সন্ধ্যার পর রঙিন আলোয় পুরো এলাকা এক নতুন রূপ পায়।
শহরের উত্তর প্রান্তে ভাটিয়ারীর সানসেট পয়েন্ট ও হ্রদ এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। পাহাড় আর হ্রদ মিলে সেখানে তৈরি হয়েছে ছবির মতো দৃশ্য। অন্যদিকে, পাহাড় ও হ্রদ ঘেরা ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কে শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে বাম্পার কার, রোলার কোস্টারসহ নানা রাইড। এবার বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে যোগ হয়েছে ‘বেসক্যাম্প’, যেখানে কায়াকিং ও অ্যাডভেঞ্চার গেমের সুযোগ রয়েছে। ফয়’স লেক কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকবে।
পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘ, সিংহ ও হরিণসহ ৭০ প্রজাতির পশুপাখি দেখার সুযোগ মিলছে। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্ণফুলী টানেল চালুর ফলে আনোয়ারার পারকি সৈকতে যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। ঝাউবন আর সমুদ্রের মিতালি উপভোগ করতে সেখানেও ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা।
রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া সৈকত, মহামায়া লেক ও খৈয়াছড়া ঝরনা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। ফটিকছড়ির হাজারীখিল অভয়ারণ্য ও কাপ্তাই হ্রদেও প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট পর্বতারোহী বাবর আলী বলেন, ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পাহাড় বা সমুদ্রের সান্নিধ্য মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলে।
ঈদের ছুটিতে পাহাড় ও সমুদ্রের টানে মুখরিত চট্টগ্রাম। পতেঙ্গা সৈকত থেকে ফয়’স লেক, সবখানেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। যান্ত্রিকতা ভুলে প্রিয়জনদের নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

0 Comments