দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে পাবনাকে কেন্দ্র করে ‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’ এবং ‘দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের প্রস্তাব প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এই দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত ‘ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু’ মূলত পাবনা, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার একটি বহুমুখী কাঠামো। এটি বাস্তবায়িত হলে পদ্মা নদীর আরিচা-দৌলতদিয়া ও কাজিরহাটসহ বিভিন্ন ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং ঈদ বা উৎসবের সময় ফেরিঘাটের দীর্ঘ ভোগান্তি নিরসন হবে।
সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গত ৬ এপ্রিল সংসদে এই প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তীতে ১৩ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও চিঠি পাঠান। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে। ২৪ মে প্রকল্পটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে উপস্থাপন করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১৬ জেলার প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
সেতুর পাশাপাশি দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে পাবনা অঞ্চলের ওষুধশিল্প, দুগ্ধখাত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে এই প্রকল্পগুলো বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও নীতিনির্ধারণী মহলে এর গুরুত্ব নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছে।
পাবনায় ওয়াই-প্যাটার্ন সেতু ও দ্বিতীয় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১৬ জেলার সাড়ে তিন কোটি মানুষের যোগাযোগে আসবে আমূল পরিবর্তন।

0 Comments