অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থেকে আসত বলে জানিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সাত সদস্যের এই কেবিনেট প্রতি মঙ্গলবার বৈঠকে বসত। তৌহিদ হোসেন জানান, তার মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল এবং তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকলেও উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
সাক্ষাৎকারে সাবেক এই উপদেষ্টা আরও জানান, পরিস্থিতির কারণে তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর হবে এমন অনুরোধে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা গৃহীত হয়নি। নিজের প্রত্যাশার বড় অংশ পূরণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যমুনায় কিচেন কেবিনেটের একটি বৈঠকে তাকে একবার যেতে হয়েছিল এবং পরে তিনি জানতে পারেন এই গ্রুপটি নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; বরং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এতে যুক্ত ছিলেন। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে এই চুক্তি সই করার বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি দিলেও তা কাজে আসবে না বলে তিনি জানতেন। তারেক রহমানের জন্য ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতকে সামলানোর বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত আসত ৭ সদস্যের কিচেন কেবিনেট থেকে। তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এক সাক্ষাৎকারে সরকারের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন তিনি।

0 Comments