Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে কক্সবাজারে লবণের উৎপাদন হ্রাস চরম লোকসানে ৪২ হাজার চাষি

জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে কক্সবাজারে লবণের উৎপাদন হ্রাস চরম লোকসানে ৪২ হাজার চাষি

কক্সবাজার জেলায় চলতি মৌসুমে ঘন ঘন লোডশেডিং, ডিজেল সংকট ও বৃষ্টির কারণে লবণের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার প্রায় ৪২ হাজার লবণচাষি।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ২৩ মে পর্যন্ত ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৯২৪ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন কমেছে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭২৭ মেট্রিক টন। যদিও ১৭ মে লবণের মৌসুম শেষ হয়েছে, তবে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অনেক চাষি এখনো উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন।

চাষিরা জানান, লবণ মাঠের পাম্প ও জেনারেটর চালাতে ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ফিলিং স্টেশনে ডিজেল না পেয়ে খুচরা দোকান থেকে প্রতি লিটারে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পানি সেচ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে প্রতি মণ লবণ ২৭০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হলেও বাজারে তা কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, তারা প্রতি কেজি লবণ মাত্র ৬-৭ টাকায় বিক্রি করলেও পরিশোধনের পর প্যাকেটজাত লবণ বাজারে ৪০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই বিশাল ব্যবধান ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক চাষিরা লাভের মুখ দেখছেন না।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লবণের চাহিদা বাড়ায় মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংক্ষেপে:
কক্সবাজারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের প্রভাবে লবণের উৎপাদন কমেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানে ৪২ হাজার চাষি। সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক চাষিরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Post a Comment

0 Comments