একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ক্ষমতা বা মাল্টিটাস্কিং নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় এই কাজে বেশি দক্ষ। তবে আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণায় এই বিষয়ে উঠে এসেছে ভিন্নধর্মী কিছু তথ্য। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক আসলে একই সঙ্গে দুটি জটিল কাজ করতে সক্ষম নয়। আমরা যাকে মাল্টিটাস্কিং বলি, তা মূলত অত্যন্ত দ্রুত এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ পরিবর্তন করা বা টাস্ক-সুইচিং।
গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাবরেটরির সাধারণ পরীক্ষায় নারী ও পুরুষের মাল্টিটাস্কিং দক্ষতায় কোনো বিশেষ পার্থক্য পাওয়া যায় না। তবে বাস্তব জীবনের জটিল ও চাপের পরিস্থিতিতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত এবং গোছানোভাবে কাজ সামলাতে পারেন বলে যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের ধারণা, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক অভ্যাসের কারণে নারীরা এই দক্ষতায় এগিয়ে থাকতে পারেন। কারণ ঘর ও বাইরের নানা কাজ একসঙ্গে সামলানোর অনুশীলনে তাদের মস্তিষ্ক এই ধরনের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মাল্টিটাস্কিং আসলে কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং ভুলের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তাই নারী বা পুরুষ নির্বিশেষে যেকোনো একটি কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়াকেই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মাল্টিটাস্কিংয়ে নারী ও পুরুষের দক্ষতার পার্থক্য নিয়ে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী? গবেষণায় দেখা গেছে, চাপের মুখে নারীরা বেশি শান্ত থাকলেও মাল্টিটাস্কিং আসলে সবার জন্যই ক্ষতিকর। বিস্তারিত জানুন।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments