জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের বয়স দুই মাস পার না হতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘আওয়ামী স্টাইলে’ দেশ পরিচালনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হলেও এখন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সচিবালয়ে ফ্যাসিবাদী আমলে ওএসডি থাকা কর্মকর্তাদের আবারও ওএসডি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, স্বাস্থ্য বিভাগে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেলের মূল্যবৃদ্ধি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা না বলে কেবল বিরোধী দলের সমালোচনায় ব্যস্ত।
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, সেদিন স্বৈরাচারী সরকারের পতন হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসূচির দিন খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপির অন্য নেতাদের ফোন বন্ধ ছিল।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির কড়া সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি বিগত সরকারের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং শেখ হাসিনাকে সব কাজে নির্বিঘ্নে সহযোগিতা করেছেন। একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন এখনও রাষ্ট্রপতি পদে রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এছাড়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদে সরকারের কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান। আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনা ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments