দেশে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার রুটে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। গত ২৭ এপ্রিল কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে চকরিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে হিমেল আহমেদ নামে এক যাত্রীর চারটি দাঁত ভেঙে যায়। একই ঘটনায় আবু সাঈদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন। তারা দুজনেই দিনাজপুর থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিলেন। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি কক্সবাজার পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে ৯ বছর বয়সী এক শিশু এবং ৮ জানুয়ারি সুবর্ণ এক্সপ্রেসে এক যাত্রী আহত হন। তথ্যমতে, ২০২৩ সালে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ১৪৫ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮টি ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার রুটে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, চকরিয়া, হারবাং ও কুমিল্লার মতো এলাকাগুলো পাথর নিক্ষেপের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত। রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ১২৭ ধারা মোতাবেক এর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই মরণঘাতী কর্মকাণ্ড বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বিশেষ করে কক্সবাজার রুটে বাড়ছে এই আতঙ্ক। চকরিয়ায় পাথরের আঘাতে এক পর্যটকের ৪টি দাঁত ভেঙেছে। নিরাপদ রেলভ্রমণ নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
সূত্র: Prothom Alo

0 Comments