শ্রীনগরে প্রতিপক্ষের গুলিতে নারী-শিশুসহ আহত ১৪

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৩ জনসহ মোট ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার অভিযোগ স্থানীয় হারুন খান ও তাঁর ভাতিজা মান্নান খানের বিরুদ্ধে। আহতরা সবাই খোরশেদ খান ও তাঁর ছেলে মিজান খানের স্বজন।

আহতরা হলেন—মিজান খান (৩৫), তাঁর মা মিনু বেগম (৫৫), ফুপু জয়তন বেগম (৫৯), শাফি বেগম (৫০), বাবা খোরশেদ খান (৬৫), চাচা ইদ্রিস খান (৬৫), ফুপাতো বোন ফাহিমা (৩৫), ভাবি কাজল বেগম (৩৫), নুপুর আক্তার (২৩), বর্ণা আক্তার (২৬), ভাতিজা-ভাতিজি আয়ান (৪), মোস্তাকিন (৪), দোলন (৭) ও ইভা আক্তার (১৬)।

আহতদের মধ্যে মিজান ছাড়া অন্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে মিজান খান হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে রুদ্রপাড়া গ্রামে তাঁর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় হারুন খান ও মান্নান খান তাঁকে রাতে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হারুন ও মান্নানসহ কয়েকজন মিজানকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মিজান বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান।

মিজানের বাবা খোরশেদ খান ছেলের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে হারুন ও মান্নানদের নাম ধরে গালিগালাজ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে হারুন ও মান্নান ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে মিজানদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে বাড়িতে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন।

পরে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) শংকর কুমার পাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর নারী ও শিশুসহ ১৪ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত মিজান খানের চাচা রফিকুল খান জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসা করে হারুন ও মান্নান। হেলমেট পরা কাউকে দেখলে তারা পুলিশ মনে করে ভয় পায়। এ কারণে মোটরসাইকেল চালালেও কাউকে হেলমেট পরতে দেয় না। এ নিয়ে তারা প্রায়ই মানুষকে ভয়ভীতি দেখায় ও মারধর করে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়ির নারী, পুরুষ ও শিশুরা গুলিবিদ্ধ হয়ে আর্তনাদ করছিল। তখনও হারুন ও মান্নান আমাদের কাউকে হাসপাতালে যেতে দিচ্ছিল না। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় রুদ্রপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও র‍্যাব ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ প্রধান অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিয়া বলেন, হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হারুন, মান্নান ও মহসিনসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত একটি একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র দুটি বৈধ। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Post a Comment

0 Comments