মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ ফরহাদ, আবু এরশাদ প্রকাশ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রকাশ সোহেল। রায় ঘোষণার সময় আসামি জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ ফরহাদ কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— তৌহিদুল ইসলাম প্রকাশ আরাফাত, হোসাইন মোহাম্মদ প্রকাশ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সৈয়দ ও আজহারুল ইসলাম প্রকাশ ছোটন।
জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক জানান, রুবেল হত্যা মামলায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
আদালতসূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ এলাকায় সম্পত্তি বিরোধের জেরে রুবেলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মমতাজ সুফিয়া শেফালী কুতুবদিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন বড়ঘোপ বাজারের একটি স্কুলের ইফতার পার্টি শেষে রুবেল রিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। কান্দাইল্যা পাড়া মালেকের ঘাটা এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে কিরিচ ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে মাথা, কাঁধ ও বুকে গুলি করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে কুতুবদিয়া ও পরে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আটজনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়।
0 Comments