স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী নিশ্চিত করেছেন, টিকেট কেলেঙ্কারি উদঘাটনের পরপরই ইব্রাত হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার পর থেকেই এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনের টিকেট না পেয়ে বহু যাত্রী হয়রানির মুখে পড়েছেন। একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং কাউন্টারের কর্মচারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বুকিং কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেজামুদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন বুকিং সহকারী নিয়মিত কালোবাজারিদের হাতে টিকেট সরবরাহ করেন। পরে সেই টিকেট দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি করা হয়। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের অডিট বিভাগের তারিফ নামের এক অডিটরও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রায়শই কক্সবাজারে এসে স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করেন, যার খরচ বহন করা হয় সিন্ডিকেটের তহবিল থেকে।
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে র্যাব তদন্ত করছে। র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে, একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়মিত টিকেট সরবরাহ ও অর্থ লেনদেন চলছে।
স্থানীয় যাত্রী অধিকারকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ জমা পড়লেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাদের মতে, শুধু বুকিং সহকারী বদলি করাই যথেষ্ট নয়; স্টেশন মাস্টারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
রেলওয়ের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২১ সালে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকার কয়েকটি স্টেশনে একই ধরনের মামলা হয়েছিল। কিন্তু সেসব মামলার কার্যকর সমাধান হয়নি; বরং অভিযুক্তরা অন্য স্টেশনে বদলি হয়ে একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। কক্সবাজারের ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছে সচেতন মহল।
বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথে প্রতিদিন ২টি এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে আরও ২টি ট্রেন চলাচল করে, যাতে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজারেরও বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেন। অধিকাংশ যাত্রীই পর্যটক হওয়ায় টিকেট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কার্যকলাপ শুধু যাত্রীসেবাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
0 Comments