রাজধানীতে ছয়টি রুট ও একটি সার্কুলার রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম। রবিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে এই বাস পরিচালনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারা এই রেশনালাইজেশন নিয়ে কাজ করছেন। তার ভাষ্যমতে, এটি দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের প্রকল্প হলেও মালিক-শ্রমিকদের অসহযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। একসময় রাজধানীতে ৯৮টি বাস রুট ছিল এবং বিভিন্ন ব্যানারে বাস চলার কারণে চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দুর্ঘটনা ঘটত। পরবর্তীতে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টিতে আনা হয়, যার মধ্যে আজ ছয়টিতে কার্যক্রম শুরু হলো। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৫৩টি নন-এসি বাস চালাবে ভিআইপি পরিবহন এবং চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে ১৩৩টি বাস চালাবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। এ ছাড়া ঘাটারচর থেকে ডেমরা এবং কাঁচপুর রুটে ফোর স্টার লাইন এবং ঘাটারচর থেকে উত্তরা পর্যন্ত পিএনপি সিটি সার্ভিস বাস পরিচালনা করবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে আগে ছয়টি রুটে ১৮টি আলাদা ব্যানার থাকলেও এখন সেগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় এনে শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন নিয়মে চালক ও শ্রমিকেরা বেতনভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করবেন এবং বাসের সামনের ডিজিটাল প্লেট দেখে যাত্রীরা রুট চিনতে পারবেন। এছাড়া ভবিষ্যতে ২৫টি সার্কুলার বাস রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে যেখানে ছোট আকারের বাস চক্রাকারে চলাচল করবে। পরিবহন মালিকদের মতে, নির্ধারিত বেতনের ব্যবস্থা থাকায় যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও সড়কে বিশৃঙ্খলা কমবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ চালু হলেও পরবর্তীতে সংকট ও লোকসানের মুখে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রাজধানীতে ছয়টি রুট ও একটি সার্কুলার রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


0 Comments