চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগের দাবিতে ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন চত্বরে এই কর্মসূচি শুরু হয়। প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচির সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে আটকে রাখা হয়। অবরোধে অংশগ্রহণকারীরা জানান, আনসারবাড়ীয়া স্টেশনটি চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্তমানে যে ট্রেনটি থামে তা ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ানোর কারণে নিচু স্থান থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই তারা ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবি জানান। অবরোধকারীদের মূল তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে স্টেশনটিতে দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণ এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা। কর্মসূচিতে উপস্থিত জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, প্রাচীন এই স্টেশনটি থেকে সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে আছেন। স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ সহজেই ঢাকা ও রাজশাহীর সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন এবং চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিও সহজ হবে। আন্দোলনকারীরা আল্টিমেটাম দিয়ে জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের তিন দফা দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
চুয়াডাঙ্গার আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গ চালু ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।


0 Comments