আসন্ন শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসবকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুমারপল্লীতে মাটির প্রদীপ বা দিয়ারি তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। উৎসবের বাড়তি চাহিদা পূরণে গত দুই সপ্তাহ ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এখানকার মৃৎশিল্পীরা। পরিবারের নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোররাও এই কাজে হাত লাগিয়েছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্য অনুযায়ী আধুনিক বৈদ্যুতিক আলোর পাশাপাশি মাটির প্রদীপের আলোয় ঘরবাড়ি ও পূজামণ্ডপ সাজানো হয়, যার ফলে এই সময়ে প্রদীপের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা কুমারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সবাই মাটি প্রস্তুত করা, প্রদীপ গড়া এবং তা রোদে শুকানো ও সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার তৈরি প্রদীপ পাশের লালমনিরহাটের বড়বাড়ি ও নয়ারহাটসহ বিভিন্ন এলাকার হাটেও সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাচীন এই পেশায় লাভ আগের চেয়ে কমলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা। মৃৎশিল্পী বিষ্ণু চন্দ্র পাল ও তাঁর স্ত্রী টুম্পা রানী পাল জানান, উৎসব উপলক্ষে তাঁরা প্রায় ২০ হাজার প্রদীপ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়িতে বসেই ৫০ টাকা শতক দরে ১০ হাজার প্রদীপ বিক্রি হয়েছে এবং বাকি প্রদীপগুলো বিভিন্ন হাটে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রির আশা করছেন। কাঁচামাল ও পরিশ্রমের খরচ বাদ দিয়ে তাঁদের ভালো লাভের আশা রয়েছে। তবে অপর মৃৎশিল্পী তাপস কুমার পাল, আনন্দ কুমার পাল ও বেরেন চন্দ্র পাল জানান, কাঁচামাল এবং জ্বালানির মূল্য বাড়লেও প্রদীপের সঠিক মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের মধ্যেও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং উৎসবের সময়ে কিছু বাড়তি আয়ের আশায় তাঁরা দিনরাত কাজ করছেন। পূজা শেষ হলে তাঁরা আবার নিয়মিত হাঁড়ি-পাতিল তৈরির কাজে ফিরে যাবেন। চন্দ্রখানা কুমারপাড়ার প্রায় ১০০টি পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় জানান, আগামী ৮ নভেম্বর শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং মাটির প্রদীপের আলোয় ঘরবাড়ি সাজানো সনাতন সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। শত পরিবারের এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। আগামী ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় শ্যামাপূজায় এই কারিগরদের তৈরি প্রদীপের আলোতেই আলোকিত হবে মণ্ডপ ও ঘরবাড়ি।
শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। ঐতিহ্য ধরে রাখতে দিনরাত কাজ করছেন তাঁরা।
-6ae9ca9feebb7.webp)

0 Comments