ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানা নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল রানা জেলার রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী গ্রামের মো. নান্দু ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী তার খালাতো বোনের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে রুবেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেন। পরবর্তীতে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন স্থানীয়দের চাপে রুবেল ওই ছাত্রীকে ফেরত পাঠালে ভুক্তভোগীর পরিবার রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।
দীর্ঘ সাত বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৯(১) ধারায় ধর্ষণের দায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি সাজাই একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। এই অর্থ আদায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম শুনানি করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে রুবেল রানা নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ সাত বছর পর ঘোষিত এই রায়ে আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।


0 Comments