বিদেশে কাজের প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার যুবক আল মামুন। সচ্ছলতার আশায় গত ৭ মে দেশ ছাড়লেও দালালের প্রতারণায় তাকে রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিতে হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গত মঙ্গলবার মামুনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার গ্রামের বাড়ি খারুয়া ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর রুশ ভাষায় লেখা একটি চুক্তিতে সই করিয়ে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। মামুনের সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া এবং পরবর্তীতে আহত হয়ে দেশে ফিরে আসা ঝিনাইদহের রাজন হোসেন জানান, ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে তারা ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। রাজনের দাবি, তাদের দলের অন্তত ১৭ জন ইতিমধ্যে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মামুনকে বিদেশে পাঠাতে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ হয়েছিল, যার বড় অংশই ঋণ এবং দাদন নেওয়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তার মা রোকেয়া খাতুন ও দুই শিশু সন্তান। মামুনের মা অভিযোগ করেন, দালালরা তার ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি এই প্রতারণার বিচার এবং ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। পরিবারকে লিখিত আবেদন করতে বলা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
রাশিয়ায় কাজের প্রলোভনে গিয়ে ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ময়মনসিংহের যুবক আল মামুন। দালালের প্রতারণায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো এই যুবকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে তার পরিবারে।


0 Comments