ত্রয়োদশ সংসদের শুরু থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে না দেওয়ার প্রশ্নে উভয় পক্ষই ঐকমত্য পোষণ করেছে। সম্প্রতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ থাকলে তা বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। শহিদদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে অপরাধে জড়িতরা বিদেশ থেকে অপপ্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পর বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্য পৃথকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং গুলশান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দেওয়ায় বিরোধী দলকে মাত্র একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দিয়েছে সরকারি দল। সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
সংস্কার ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে টানাপড়েন থাকলেও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে না দেওয়ার প্রশ্নে একমত উভয় পক্ষ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন নিয়ে চলছে রাজনৈতিক কৌশল।


0 Comments