ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মশতবর্ষে স্মৃতিচারণ: রম্যরচনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক গভীর জীবনদর্শন ও পাণ্ডিত্য

সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মশতবর্ষে স্মৃতিচারণ: রম্যরচনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক গভীর জীবনদর্শন ও পাণ্ডিত্য

সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর জীবন ও কর্মের বহুমুখী দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। মুজতবা আলীকে সাধারণত রম্যলেখক হিসেবে গণ্য করা হলেও তাঁর পাণ্ডিত্য ও জীবনদর্শন ছিল অত্যন্ত গভীর। ১৯৬৭ সালে সিলেটে লেখকের পারিবারিক বাসভবনে মুজতবা আলীর সফরের স্মৃতি থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর ঢাকার ধানমন্ডিতে তাঁর সাথে কাটানো সময়ের নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে এই আলোচনায়।

মুজতবা আলী ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং বিশ্বসাহিত্যের নিবিষ্ট পাঠক। তিনি জার্মান কবি গ্যেটে এবং দার্শনিক নিৎসের অনুরাগী ছিলেন। তবে তাঁর লেখায় ফরাসি ও ইংরেজি সাহিত্যের রসবোধের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। বাংলা সাহিত্যে ‘উইট’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক হাস্যরসের প্রয়োগে তিনি ছিলেন অনন্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং অন্যের মেধার প্রশংসা করতে কার্পণ্য করতেন না।

রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তায় সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল। ১৯৪৮ সালে ‘পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি যে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা তাঁকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন করেছিল। তিনি মনে করতেন, সংকীর্ণ ধর্মীয় উন্মাদনা ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ মানবতার শত্রু। মানুষের জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমেই মুক্তি সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। তাঁর রম্যরচনার আড়ালে লুকিয়ে থাকত গভীর জীবনবোধ ও সমাজ সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা।

সংক্ষেপে:
সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মশতবর্ষে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। রম্যরচনার আড়ালে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দর্শনের নানা দিক উঠে এসেছে এই লেখায়।
সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মশতবর্ষে স্মৃতিচারণ: রম্যরচনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক গভীর জীবনদর্শন ও পাণ্ডিত্য

0 Comments