ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ওমানের রাজধানী মাসকটে সোমবার আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়ে একটি চুক্তি সই হবে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই চুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকেও (আইএমও) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও জানান, যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে, সেসব দেশও এই বৈঠকে অংশ নেবে। মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামরিকভাবে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। তবে ইরান পুরোপুরি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এই চাপের মুখেও তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ ও হামলা বন্ধ করে, তবে ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি দেশ এই আঞ্চলিক বৈঠকে অংশ নেবে। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ নৌপথ নির্ধারণে ইরান ও ওমানের আলোচনার ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বাঘাই আরও বলেন, জলপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান কাজ করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত এই নতুন করিডরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে এই বৈঠকের বিষয়ে ওমানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওমানের মাসকটে সোমবার আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চুক্তি হতে যাচ্ছে। জলপথের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে এই বৈঠকে।


0 Comments