ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংস্কার বাস্তবায়ন ও সংসদীয় কমিটির পদ বণ্টন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। ৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হলেও আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া এবং পরমতসহিষ্ণুতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত নতুন বিল দুটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের তুলনায় ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন না করায় রাজনৈতিক বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিরোধী দলের দাবি ছিল আসন অনুপাতে ১০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিসহ মোট ১৪টি সভাপতি পদ, কিন্তু তারা পেয়েছে মাত্র একটি। এছাড়া মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাহী বিভাগের সদস্যরা কমিটির প্রধান হলে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অধিবেশন চলাকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের হট্টগোল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য নিয়ে বিতণ্ডা সংসদের অসহিষ্ণু পরিবেশকে সামনে এনেছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও বিল পাসের প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও জ্বালানি ও সার সংকটের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বর্তমান ধারাকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংস্কার বিল ও সংসদীয় কমিটির পদ বণ্টন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া ও অসহিষ্ণু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


0 Comments