ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগে এক ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। রবিবার সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামে ডিলার শহিদুল ইসলামের পয়েন্টে এই ঘটনা ঘটে। পরে কৃষি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে গুদামে থাকা প্রায় ৬০ বস্তা সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, রবিবার সকালে সার বিক্রির কথা থাকলেও ডিলার জানান যে আগের দুই দিনেই সব সার শেষ হয়ে গেছে। তবে কৃষকেরা ডিলারের তালাবদ্ধ গুদাম খুলে সেখানে আরও ৬০ বস্তা সারের সন্ধান পান। তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ৬৪ টন চাহিদার বিপরীতে ডিলার শহিদুল ইসলাম ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছিলেন। তবে বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে কৃষকদের তথ্যে ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেছে। রেজিস্টারে থাকা ৯ জন কৃষকের মধ্যে মাত্র একজন সার পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন, বাকি আটটি নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, নিয়ম মেনেই সব সার বিতরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল জানান, গুদামে পাওয়া সার কৃষকদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রেজিস্টারের অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, জেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমানও জেলায় সার সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে নিশ্চিত করেছেন।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে কৃষি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া ৬০ বস্তা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।


0 Comments