ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে থমকে যাওয়া শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি মস্কো ও কিয়েভ সফর করেছেন। এই সফর এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠককে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষই ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও আলোচনার বিস্তারিত এখনো গোপন রাখা হয়েছে, তবে এই সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। মস্কোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ইউক্রেনকে একটি প্রকৃত নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে হবে এবং সেখানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি থাকা চলবে না। এছাড়া রাশিয়া তাদের দখল করা অঞ্চলগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং দনবাস অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ও অস্ত্রের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ এবং রুশ ভাষার ব্যবহার সীমিতকরণ আইন বাতিলের মতো শর্তও দিয়েছে ক্রেমলিন।
উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই দুই দূতের সফরের এক সপ্তাহ আগে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে উইটকফ ও কুশনারকে মস্কোয় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে এবং তাঁরা পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন। একে ওয়াশিংটনের কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। রাশিয়ার অব্যাহত হামলায় দেশটির জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কিয়েভে রাজনৈতিক সংকট ও প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এমন জটিল পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই শান্তি প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নিশ্চিত করা। তবে প্রতিনিধিরা সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, তাৎক্ষণিক কোনো বড় সাফল্য না এলেও তারা রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ খুঁজছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফর সম্পন্ন হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শান্তি ফেরাতে এটি বড় উদ্যোগ।


0 Comments