জাতীয় সংসদে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী বিরোধী দল মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর ২৬ শতাংশ সভাপতি পদের দাবি জানালেও সরকার এতে শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের সভাপতি পদ দিতে কোনো আপত্তি নেই।
রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বিতর্কের কারণে এদিন নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি, তবে চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি কমিটির মধ্যে প্রায় ১০টি এবং আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি পদ তাদের পাওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত গঠিত ১৫টি কমিটির মধ্যে কেবল সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ তাদের দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি বিশেষ কমিটিতে যোগ দেওয়ার শর্তে তারা এই পদগুলো নিতে রাজি নন।
অন্যদিকে, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। তারা বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি পাঠানোর আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সনদ বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করে কেবল সুবিধা চাওয়া বিপরীতমুখী অবস্থান।
বর্তমানে সংসদে ১১টি বিষয়ভিত্তিক এবং ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি রয়েছে। জুলাই সনদে সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উভয় পক্ষকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং প্রয়োজনে রুদ্ধদ্বার আলোচনার পরামর্শ দেন।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী ২৬ শতাংশ পদের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল। অন্যদিকে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার শর্ত দিয়েছে সরকার।


0 Comments