ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত করা এবং মসজিদে নামাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনার অবসান হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে সম্প্রীতি ফিরে এসেছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নওয়াপাড়া গ্রামে মৃত আব্দুর রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গণির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আয়োজিত এক শালিসে পরিবারের বহিরাগত আত্মীয়দের উপস্থিতির অভিযোগ তুলে তাদের একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের মসজিদে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাতে আলফাডাঙ্গা থানা চত্বরে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসিবের সহযোগিতায় এই বৈঠক আয়োজিত হয়। বৈঠকে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে আগের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস ও চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে শেখ সাদী হাসান ভুক্তভোগী খালিদ হাসানের কাছে পরিবারটিকে একঘরে করার সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে উপস্থিত সবার সামনে উভয় পক্ষ কোলাকুলির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান করেন।
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, ঘটনাটি সামাজিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী হওয়ায় তারা এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উভয় পক্ষ এখন থেকে মিলেমিশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় থানা চত্বরে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে নিয়েছেন।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারকে সমাজচ্যুত ও মসজিদে নামাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞার ঘটনার অবসান হয়েছে। স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও সম্প্রীতি ফিরেছে।


0 Comments