কক্সবাজার জেলার অন্যতম বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফেডারেশনের অধীনে বর্তমানে ১০২টি দোকান মালিক সমিতি রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে দুইজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে ১৯টি পদে ৪৬ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন।
সভাপতি পদে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আবুল হাশেম সওদাগর এবং ছাতা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফরিদ আহমেদ চৌধুরী। জয়ের ব্যাপারে উভয় প্রার্থী শতভাগ আশাবাদী হলেও একে অপরের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার পাল্টাসাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। আবুল হাশেম সওদাগর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চান। অন্যদিকে, ফরিদ আহমেদ চৌধুরী মনে করেন ব্যবসায়ী সংগঠনে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন এবং তিনি সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করবেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই হচ্ছে দুই বন্ধু আমিনুল ইসলাম মুকুল ও আমিনুল ইসলাম হাসানের মধ্যে। ২০২৩ সালের পৌরসভা নির্বাচনের পর আবারও তারা মুখোমুখি হচ্ছেন। পাঞ্জাবি প্রতীকের প্রার্থী সাবেক পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুকুল জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, চাকা প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম হাসানও বিপুল ভোটে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিকভাবে মুকুল বিএনপির এবং হাসান জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও সভাপতি পদের প্রার্থীরা কোনো দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ পদে আহমেদ কবির এবং প্রচার সম্পাদক পদে গিয়াস উদ্দিন রোকন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ১০২টি সমিতির ১ হাজার ১২২ জন এবং ২১৮ জন আজীবন সদস্যসহ মোট ১ হাজার ৩৪০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বায়তুশ শরফ জাব্বারিয়া একাডেমী প্রাঙ্গণে ভোটগ্রহণ চলবে। তবে জুমার নামাজের জন্য দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা বিরতি থাকবে।
কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন শুক্রবার। ১৯টি পদে ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ১ হাজার ৩৪০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।


0 Comments