রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে তিন যুবকের সঙ্গে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে আলোচিত ওই মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরই সন্দেহজনক। এর মধ্যে একটি নম্বর এক শোরুম মালিকের হলেও তিনি দাবি করেছেন, তার শোরুম থেকে এই বাইকটি বিক্রি হয়নি। অন্য নম্বরটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জে হলেও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুলিশ তা প্রকাশ করেনি।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে। ওমরাহ সফর শেষে ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ওই মোটরসাইকেলটিকে অনুসরণ করেন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ছিলেন এবং চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, তরুণীর পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর অবস্থায় ঝুলছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং পরে মোটরসাইকেলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
এদিকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, উত্তরার একটি বারে মদ্যপানের পর ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। টঙ্গী পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকানা, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।
আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।


0 Comments