ঐতিহাসিক নাগাসাকি দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শান্তি র্যালি ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এবং জাপানের মেট্রো প্লাস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। র্যালিটি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে শুরু হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘রিফ্লেক্টিং অন পিস থ্রু দ্য পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট অব নাগাসাকি’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং পরবর্তী সময়ে শহরটির আধুনিক ও সুন্দর হয়ে ওঠার বিবর্তন তুলে ধরা হয়। আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান মি. ইয় আওইয়াগি এবং মেট্রো প্লাস কোম্পানির চেয়ারম্যান মি. তাকাশি কাওয়াসাকি। সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন মেট্রো প্লাস কোম্পানির প্রেসিডেন্ট মিজ আইয়াকো কাওয়াসাকি এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনছারুল আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রভাষক আনিকা বেগম।
সেমিনার শেষে প্রথম জাপানি ভাষা রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার সুমি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে মেট্রো আইটি অ্যান্ড জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউটের মো. শাহী আহমেদ এবং মারিয়া তাসনিম। অনুষ্ঠানে জাপান ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ মি. তোমোয়ুকি ফুকুই, মেট্রো আইটির মি. ইয়োশিও ইসোযাকি ও মিজ তাকিকো হোনদাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের আগস্টে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতাকে স্মরণ করে প্রতি বছর এই দিবসগুলো পালন করা হয়।
ঐতিহাসিক নাগাসাকি দিবস স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও জাপানের উত্তরণের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ভাষা প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেওয়া হয়।


0 Comments