ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

বাংলা কবিতার বিবর্তন ও নব্বইয়ের দশকের কবিদের নিরীক্ষাধর্মী কাব্যযাত্রার স্বরূপ বিশ্লেষণ

বাংলা কবিতার বিবর্তন ও নব্বইয়ের দশকের কবিদের নিরীক্ষাধর্মী কাব্যযাত্রার স্বরূপ বিশ্লেষণ

কবিতা সাহিত্যের একটি সূক্ষ্ম ও প্রাচীন শাখা যা সময়ের সাথে সাথে তার কাঠামো পরিবর্তন করেছে। বাংলা কবিতার এই দীর্ঘ যাত্রায় রবীন্দ্র-নজরুল পরবর্তী ত্রিশের কবিরা যেমন নতুন আবহ এনেছিলেন, তেমনি মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাত ধরে আধুনিকতার সূচনা হয়েছিল। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের কবিতায় রাজনৈতিক স্লোগান প্রাধান্য পেলেও আশির দশকে কাব্যিক আমেজ বেশি পরিলক্ষিত হয়। তবে ত্রিশের দশকের পর বাংলা কবিতায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে নব্বইয়ের দশকে।

নব্বইয়ের দশকের কবিতা মূলত লিটলম্যাগকেন্দ্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে কবিরা প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা ও নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে কাব্যচর্চাকে গুরুত্ব দেন। এ সময়ের কবিতায় বিশ্বায়ন, স্বৈরাচারী শাসন এবং সমকালীন অস্থিরতার প্রভাব স্পষ্ট। কবিরা মুক্তছন্দ ও মুক্তগদ্যের মাধ্যমে কবিতাকে প্রথাগত ছক থেকে মুক্ত করেন।

নব্বইয়ের দশকের কবিদের মধ্যে ওবায়েদ আকাশ, কামরুল ইসলাম, জফির সেতু ও শোয়াইব জিবরান প্রমুখের কবিতায় বৈশ্বিক অভিঘাত ও লোকজ ঐতিহ্যের সমন্বয় দেখা যায়। মুজিব ইরমের কবিতায় লোকজ শব্দের আধুনিক ব্যবহার এবং ব্রাত্য রাইসুর কবিতায় সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়া শামীম রেজা, মাহফুজ আল-হোসেন, ভাগ্যধন বড়ুয়া এবং ইকবাল হোসেন বুলবুলের মতো কবিরা নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্যে বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছেন। মূলত শব্দ সচেতনতা ও নিরীক্ষাধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি নব্বইয়ের দশকের কবিতাকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

সংক্ষেপে:
বাংলা কবিতার বিবর্তন ও নব্বইয়ের দশকের কবিদের নিরীক্ষাধর্মী কাব্যচর্চা নিয়ে বিশেষ আলোচনা। লিটলম্যাগ আন্দোলন ও আধুনিক প্রকরণের মাধ্যমে এ সময়ের কবিরা বাংলা কবিতায় যে নতুন বাঁক তৈরি করেছেন, তার স্বরূপ এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলা কবিতার বিবর্তন ও নব্বইয়ের দশকের কবিদের নিরীক্ষাধর্মী কাব্যযাত্রার স্বরূপ বিশ্লেষণ

0 Comments