চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার পানিতে আটকে পড়া একটি পরিবারের ১৩ সদস্যকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার রাতে উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায় জলকদর খালের উপচে পড়া পানিতে এলাকাটি প্লাবিত হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় দুই ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে একটি কুঁড়েঘর থেকে আট মাস বয়সী এক শিশু, একজন গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, পানির তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সরঞ্জাম প্রস্তুত করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ওই পরিবার ছাড়াও গভীর রাত পর্যন্ত মোট ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানিয়েছেন, উপজেলার ৪ থেকে ৫টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। গত ৭ জুলাই থেকে পানি বাড়তে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এমনকি ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রও পানির নিচে চলে গেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
জাতীয় জরুরি সেবার পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোথাও কোমর সমান আবার কোথাও হাঁটু সমান পানি জমেছে। পানিবন্দি মানুষকে সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পানিবন্দি ঘর থেকে ৮ মাসের শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ একই পরিবারের ১৩ সদস্যকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনও প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।


0 Comments