মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থান লক্ষ্য করে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। বুধবার রাতভর চলা এই বোমা বর্ষণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকা। যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় নাফ নদী ও সীমান্তজুড়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও নেটংপাড়া সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সীমান্তের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাখাইনের রাজধানী সিত্তে থেকে যুদ্ধবিমান উড়ে এসে মংডুতে হামলা চালাচ্ছে। বুধবার রাতে মাত্র দুই ঘণ্টায় অন্তত ২৭ বার বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যার প্রভাবে টেকনাফের নাফ নদী সংলগ্ন ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে অতিরিক্ত টহল চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
সবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ও হোয়াইক্যং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল চৌধুরী সংঘাত বাড়লে নতুন করে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের দাবি করেছেন, হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিজিবি-কোস্টগার্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় কাঁপছে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে।


0 Comments