দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতের রায়ের পর এই প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরকারি কর্মকমিশনের কাছে আজ বিকেলের মধ্যেই এই পদের চাহিদা পাঠানো হবে যাতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
এর আগে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধিমালার একটি অংশ অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি বাধা দূর হয়েছে। মন্ত্রী জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে রায়ের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত চাহিদা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। পদটি দশম গ্রেডের হওয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে পিএসসির সুপারিশ প্রয়োজন হয়।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ৩৬ হাজার সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার পর সহকারী শিক্ষকের সমসংখ্যক পদ শূন্য হবে। বর্তমানে ২ হাজার ২০০টির বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি আছে। সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষক পদেও দ্রুত নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
আদালতের রায়ের পর ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এর ফলে সহকারী শিক্ষকদের ৩৮ হাজার পদও শূন্য হবে যেখানে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।


0 Comments